Pages

Monday, 12 February 2018

মনিটর কেনার অাগে জেনে নিন



মনিটর কেনা খুবই সহজ কাজ বলে মনে হয়। বিভিন্ন অাকারের মনিটর পাওয়া যায়। কেনার সময় নিজের ইচ্ছামত অাকার দেখেই অামরা মনিটর কিনে ফেলি। কিন্তু কেনার পর বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বিভিন্ন সময়ে। মনিটর কেনার অাগে পর্দার অাকার ছাড়াও অনেককিছু দেখে নেওয়ার মত ব্যাপার রয়েছে। এগুলি জেনে নিলে মনিটর নিয়ে অাপনাকে সমস্যায় পড়তে হবে না। এখানে শুধুমাত্র LED মনিটর নিয়েই বলা হল। কারণ এই মনিটর যেমন একদিকে অাপনার বিদ্যুতের সাশ্রয় করবে অপরদিকে অাপনার চোখের স্বাস্থ্যও ভালো রাখবে।

অাকার : ডেস্কটপ মনিটরের বহুল প্রচলিত অাকারগুলি হল, ১৫.৬ ইঞ্চি, ১৮.৫ ইঞ্চি, ১৯.৫ ইঞ্চি, ২১.৫ ইঞ্চি, ইত্যাদি। পূর্ণসংখ্যা বা রাউন্ড ফিগারে অানার জন্য এগুলিকে ১৬ ইঞ্চি, ১৯ ইঞ্চি, ইত্যাদি বলা হয়। মাপ জানার জন্য পর্দার অাড়াঅাড়ি এক কোণ থেকে অপর কোণ মেপে নিন। ১৮.৫ ইঞ্চিই বেশি প্রচলিত। চেষ্টা করবেন কমপক্ষে এই মাপেরই মনিটর কিনতে।

প্যানেলের প্রকৃতি : প্রধানত তিন রকমের প্যানেল দেখা যায়, TN, VA IPS প্যানেল। এখানে এগুলির ব্যাপারে অতি সংক্ষেপে বলা হল।
TN এর দাম সবচেয়ে কম। এই প্যানেলের viewing angle সবচেয়ে কম। অর্থাৎ সামনে বসে অাপনি যতটা পরিস্কার দেখবেন, উপর-নীচে বা ডানদিক-বামদিকে সরে গেলে ছবি ততটা ভালো থাকবে না।
VA প্যানেলের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর কনট্রাস্ট রেশিও। কনট্রাস্ট রেশিও বেশি থাকায় এতে কালো রঙ অত্যন্ত ঘন কালো হিসাবে দেখা যায়। ভিডিও দেখার জন্য VA প্যানেল অাদর্শ। এর ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল TN এর তুলনায় অনেক বেশি।
এই তিনের মধ্যে সবচেয়ে দামী হচ্ছে IPS প্যানেল। এটি বিখ্যাত এর ভিউয়িং অ্যাঙ্গেলের জন্য। বলতে গেলে এটিকে যেকোনো কোণ থেকে সমানভাবে দেখা যায়। ছবির রঙও খুব সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। তাই ফটো ও ভিডিও এডিটিং করার জন্য IPS মনিটর ব্যবহার করলে ভালো কাজ হয়। তবে এর কনট্রাস্ট রেশিও VA প্যানেলের থেকে কম হওয়ায় এতে কালো রঙ ততটা ঘন কালো দেখায় না।

রেজলিউশন : মোবাইল ফোন কেনার সময় অামরা যেমন ডিসপ্লে রেজলিউশন দেখে কিনি, কম্পিউটার মনিটর কেনার সময় অামরা ততটা গুরুত্ব দিই না। মনিটরের অাকার কম রেজলিউশন বেশি হলে ছবি যেমন কাচের মত পরিস্কার অাসবে, অপরদিকে অাকার বেশি ও রেজলিউশন কম হলে ছবি ঘোলাটে দেখাবে। ১৫.৬ বা ১৮.৫ ইঞ্চি মনিটর কিনলে দেখে নেবেন তার রেজলিউশন যেন ১৩৬৬x৭৬৮ এর কম না হয়। এর বেশি অাকারের মনিটর যেমন ২১.৫ বা তার বেশি হলে কমপক্ষে ১৯২০x১০৮০ পিক্সেল রেজলিউশন থাকা অাবশ্যিক। ২৭ বা ৩২ ইঞ্চির মত বড় অাকারের মনিটর কিনলে তার রেজলিউশন দেখে নেবেন। রেজলিউশন কিছুটা অ্যাসপেক্ট রেশিওর ওপরেও নির্ভর করে।

অ্যাসপেক্ট রেশিও : এটি হল মনিটরের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত। মনিটর বলতে শুধুমাত্র সেটুকুই বোঝানো হচ্ছে যার মধ্যে ছবি ফুটে ওঠে। মনিটরের ফ্রেমকে অ্যাসপেক্ট রেশিওর মধ্যে ধরা হয় না। অাগেকার দিনের CRT মনিটরগুলি দেখলে বুঝতে পারবেন সেগুলি কিছুটা বর্গাকার হত। সেগুলির অ্যাসপেক্ট রেশিও হত ৪:৩। বর্তমানে LED মনিটরগুলি দেখলে বুঝবেন এগুলি অায়তাকার। অনেকটা থিয়েটারের পর্দার মত। এগুলির অ্যাসপেক্ট রেশিও সাধারণত ১৬:৯ হয়ে থাকে। কিছুটা বর্গাকার LED মনিটরও দেখা যায়, যেগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন অফিসে ব্যবহৃত হয়। এগুলি ৫:৪ অ্যাসপেক্ট রেশিওর হয়ে থাকে। এছাড়াও ১৬:১০ মনিটরও দেখা যায়। যদিও এগুলি সংখ্যায় খুব কম। ক্রমশঃ Ultra Wide মনিটর জনপ্রিয় হচ্ছে। এগুলি ২১:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিওর হয়।
১৬:৯ মনিটর ভিডিও দেখা ও গেম খেলার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ। এতে দুটি উইন্ডো পাশাপাশি খুলে রেখে ব্যবহার করা যায় ভালোভাবে। যদি অাপনাকে একইসাথে দুটি কাজ করতে হয় তাহলে ১৬:৯ মনিটরে সুবিধা হবে।
অফিসের কাজের জন্য ৫:৪ অ্যাসপেক্ট রেশিওর মনিটর ব্যবহার করলে একসাথে অনেকটা অংশ দেখতে পাবেন। ডকুমেন্ট টাইপিং বা পড়ার জন্য এই মনিটর অাদর্শ। কারণ এতে বারবার মাউসের সাহায্যে নামিয়ে নামিয়ে পড়তে হবে না। এগুলির দাম তুলনামূলকভাবে একটু বেশি হয়।
এই দুটির মাঝামাঝি বিকল্প হিসাবে ১৬:১০ এর মনিটর কিনতে পারেন। তবে এই অ্যাসপেক্ট রেশিওর মনিটর খুব বেশি পাওয়া যায় না।
এখন প্রায় সমস্ত ভিডিও ১৬:৯ তে বানানো হয়। তাই ৫:৪ বা ১৬:১০ মনিটরে এইরকম ভিডিও চালালে ওপরে ও নীচে দুটি কালো অংশ দেখতে পাবেন।

ইনপুট কানেক্টর : এটির মাধ্যমে কম্পিউটারের সিগন্যাল মনিটরে যাবে এবং পর্দায় সবকিছু দেখতে পাবেন। এটি বিভিন্ন রকমের হয়। কখনও কখনও মনিটরে একাধিক ইনপুট কানেক্টর থাকে। সাধারণত VGA বেশি লক্ষ্য করা যায়। VGA কানেক্টর অ্যানালগ সিগন্যাল বহন করে। এটির মাধ্যমে মনিটর যুক্ত করলে এর মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র ছবিই পর্দায় ফুটে উঠবে। মনিটরের ভিতরে স্পিকার থাকলে তাতে সিগন্যাল যাবে না। VGA কে D-Sub ও বলা হয়।
এরপর রয়েছে DVI-I DVI-D। প্রথমটি অ্যানালগ ও ডিজিটাল দুইপ্রকার এবং দ্বিতীয়টি শুধু ডিজিটাল সিগন্যাল বহন করে। VGA এর ন্যায় এটিও শুধুমাত্র ছবির সিগন্যাল বহন করে। DVI তেমনভাবে প্রচলিত নয় এবং খুব কম মনিটরেই এইরূপ কানেক্টর পাবেন।
HDMI এর কথা অনেকেই জানেন, কারণ মনিটরে এই কানেক্টর থাকলে অনেক সময় তা বড় বড় করে লেখা থাকে। এটি শুধুমাত্র ডিজিটাল সিগন্যাল বহন করে যার মধ্যে ছবি ও শব্দ দুইই রয়েছে। যদি মাদারবোর্ড ও মনিটরে HDMI পোর্ট থাকে তাহলে অবশ্যই এটি ব্যবহার করুন। মনিটরে স্পিকার থাকলে অালাদাভাবে স্পিকার কেনার প্রয়োজন হবে না। বর্তমানে অনেক যন্ত্রে HDMI পোর্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে সেট টপ বক্স, গেমিং কনসোল, ইত্যাদি। সম্ভব হলে বাকি দুটির বদলে HDMI ই ব্যবহার করুন।
এগুলি ছাড়াও অারও বেশকিছু কানেক্টর রয়েছে সেগুলি একটু উন্নত ও অত্যাধুনিক মনিটরে ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য বৈশিষ্ট্য : কেনার অাগে অারও কিছু ছোটখাটো ব্যাপার দেখে নিতে পারলে ব্যবহার করার সময় সুবিধা হবে। অাপনার প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলি দেখে নেবেন। যদিও সবকিছু একসাথে পাওয়া সম্ভব না হতেও পারে।
মনিটর উপর-নীচে হেলানোর ব্যবস্থা থাকলে ভালো হয়। কিছু কিছু মনিটরের উচ্চতা কমবেশি করা যায়।
বিভিন্ন কাজ করার জন্য কিছু বোতাম মনিটরের নীচে দেওয়া থাকে। এগুলির সাহায্যে ব্রাইটনেস, কনট্রাস্ট, কালার, রেজলিউশন, ইত্যাদি কমবেশি করা যায়। অনেক সময় বাটনের বদলে সফটওয়্যার দেওয়া থাকে। যেটি ইনস্টল করে ওইসব কাজ করা যায়। বাটন থাকলে বেশি সুবিধা হয়।
ইনপুট কানেক্টর অন্তত দুটি থাকলে ভালো। এর মধ্যে একটি VGA ও অপরটি HDMI হলে প্রায় সমস্ত কিছুর সাথেই সেই মনিটর যুক্ত করা যাবে। একধিক যন্ত্রের জন্য একটি মনিটর ব্যবহার করতে পারবেন এক্ষেত্রে। তবে যেকোনো সময়ে শুধুমাত্র একটিই ব্যবহার করা যাবে।
মনিটরে স্পিকার থাকলে সাধারণত সেই মনিটরে HDMI পোর্ট থাকবে। তবে HDMI পোর্ট অাছে অথচ স্পিকার নেই এমনটা হয়েই থাকে। মনিটরের স্পিকারগুলি খুবই সাধারণ মানের হয়।
ডিসপ্লে glossy বা চকচকে হলে কাজ করার সময় অাপনি নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পাবেন। জানলার ধারে থাকলে দিনের অালোয় এমন মনিটরে কাজ করা খুবই সমস্যার। সবসময় matte বা খসখসে প্রকৃতির ডিসপ্লে কিনবেন।
টিভির মত দেওয়ালে লাগাতে চাইলে দেখে নেবেন সেই ব্যবস্থা অাছে কিনা। এই ব্যবস্থাকে vesa mount বলা হয়। ভেসা মাউন্ট করার অাগে দেখে নেবেন পাওয়ার ও ডিসপ্লে কেবলগুলি ঠিকঠাক লাগানো যাচ্ছে কিনা।

বৈশিষ্ট্য ও ব্র্যান্ড অনুযায়ী মনিটরের দামের তারতম্য হবে। কম্পিউটারের অন্যান্য হার্ডওয়্যার কনফিগারেশনের ন্যায় মনিটরের বৈশিষ্ট্যগুলিও দেখে নেবেন। উন্নত হার্ডওয়্যার থাকলে উন্নত মনিটর নিতে হবে বা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষমতার কম্পিউটার নিলে যে অতি সাধারণ মনিটর নিতে হবে; এই ধারণা ত্যাগ করবেন। যেমন দরকার ঠিক তেমনটি কিনবেন।





Saturday, 10 February 2018

ডেস্কটপ কম্পিউটার কেনার অাগে যেগুলি অাপনাকে জানতে হবে



প্রথম কোনো কম্পিউটার কেনার অাগে অামরা কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নিয়ে থাকি। তারপর সেই পরামর্শ অনুযায়ী কনফিগারেশন নিয়ে কোনো বিক্রেতার কাছে যাই। বিক্রেতা তাঁর সুবিধা অনুযায়ী তাতে কিছুটা পরিবর্তন করে অাপনাকে দাম বলে থাকে। এইভাবে অাপনার টাকায় অন্যের কম্পিউটার অাসে। অামরা তাদেরই পরামর্শ নিই যারা কম্পিউটার ব্যবহার করেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখেছি তাঁরা অাপনার প্রয়োজন না বুঝেই বাজারে প্রচলিত ভালো (এবং অবশ্যই দামী) কিছু কিছু যন্ত্রাংশ নেবার পরামর্শ দেন। দরকারী না হওয়া সত্ত্বেও মোটা টাকা খরচ হয় কম্পিউটার কিনতে। অামি অাপনাদের বলব অাপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কীভাবে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার অাপনারা নিজেই বেছে নিতে পারবেন।

প্রসেসর : কম্পিউটার কনফিগারেশনের শুরু হয় এটা দিয়ে এবং এটাতেই অামরা ভুল করে থাকি। শুধুমাত্র দুটি সংস্থা প্রসেসর তৈরি করে থাকে, Intel AMD। বিজ্ঞাপনের দৌলতে Intel এর নাম শুনে থাকলেও AMD র নাম অনেকের অজানা। Intel প্রসেসরগুলি একই ক্ষমতার AMD প্রসেসরের থেকে একটু দামী হয়ে থাকে। Intel এর প্রসেসর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও বেশি করে একই ক্ষমতার AMD প্রসেসরের তুলনায়। যদিও AMD নিত্যনতুন অাবিষ্কারের দ্বারা এখন প্রায় Intel এর সমতুল এবং এই দুইয়ের পার্থক্য বের করা ও কে বেশি ভালো সেই নিয়ে মাথা ঘামানো সময়ের অপচয়। যত বেশি কোর থাকবে তত উন্নত প্রসেসর হবে বলে অামরা মনে করি। কিন্তু এটা অনেকেই জানি না কাজ নির্ভর করে কিছুটা সফটওয়্যারের ওপরেও। যদি সফটওয়্যারটি এভাবে বানানো হয়ে থাকে যে, সেটি প্রসেসরের একটিমাত্র কোরই ব্যবহার করবে কাজ করার জন্য, তাহলে ২টি কোরযুক্ত প্রসেসরেও সেটি যেভাবে চলবে ৮টি কোরযুক্ত প্রসেসরেও সেটি একইভাবে চলবে।
ইন্টারনেট ব্যবহার, টাইপ করা, ভিডিও দেখা, গান শোনা, ইত্যাদি সাধারণ কাজগুলির জন্য খুব শক্তিশালী প্রসেসরের প্রয়োজন হয় না। যেকোনো ২টি কোরযুক্ত বা যাকে বলে Dual Core প্রসেসর এসব কাজ অনায়াসে করতে পারে। ট্যালি বা মাইক্রোসফট অফিসের মত ব্যাবসায়িক সফটওয়্যারগুলির জন্যও কোনো Dual Core প্রসেসরই যথেষ্ট। ফটো এডিটিং করতে চাইলে অন্তত ৩ গিগাহার্ৎজ (3 GHz) ক্ষমতার কোনো Dual Core প্রসেসর নিলে ভালো হয়। এতে দ্রুত কাজ হবে। ভিডিও এডিটিং বা কনভার্ট করার জন্য ৪টি অর্থাৎ Quad Core প্রসেসর নিলে ভালো হয়। কারণ এই কাজে প্রসেসর অধিকমাত্রায় ব্যবহৃত হয়Dual Core প্রসেসর ব্যবহার করলে কাজটি করতে সময় অনেক বেশি লাগবে।

মাদারবোর্ড বা মেনবোর্ড : মাদারবোর্ডের দিকে অামরা ততটা গুরুত্ব দিই না। অাসলে ভিন্ন ভিন্ন প্রসেসরের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মাদারবোর্ড কিনতে হয়। যেমন, Intel প্রসেসরের জন্য নির্দিষ্ট সকেট অনুযায়ী মাদারবোর্ড প্রয়োজন, অাবার একইভাবে AMD প্রসেসরের জন্য তার উপযোগী মাদারবোর্ড প্রয়োজন। বিক্রেতা অাপনাকে সঠিক মাদারবোর্ড বেছে নিতে সাহায্য করবে। তবে মাদারবোর্ডে অারও অনেক বাড়তি বৈশিষ্ট্য থাকে। সমসাময়িক পরিস্থিতি ও অাপনার প্রয়োজন অনুযায়ী মাদারবোর্ড কেনার অাগে সেগুলি দেখে নিতে পারলে ভালো হয়। যেমন, USB পোর্ট; অন্তত ৬ টি USB পোর্টযুক্ত মাদারবোর্ড কিনবেন। তবে না সম্ভব না হলে অন্তত ৪ টি অবশ্যই থাকা চাই। অন্তত ১ টি বা ২ টি পোর্ট যেন USB .০ হয়ে থাকে। USB .০ পোর্টগুলি হালকা নীল রঙের হয়। মনিটর যুক্ত করার জন্য ২ টি পোর্ট থাকা দরকার। একটি VGA বা D-Sub এবং অপরটি HDMI হলে ভালো হয়। VGA এর বদলে HDMI ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়। অন্তত ৩ টি SATA পোর্টযুক্ত মাদারবোর্ড কিনবেন, তবে ৪ টি থাকলে ভালো। মাদারবোর্ডে যেন একটি PCI-Express x1 ও একটি PCI-Express x16 স্লট অবশ্যই থাকে। RAM লাগানোর স্লট ২ টি থাকা দরকার। একটি ব্যবহৃত হবে, অপরটি খালি থাকবে ভবিষ্যতে বাড়ানোর জন্য। ৪ টি RAM স্লটযুক্ত মাদারবোর্ডও পাওয়া যায়, কিন্তু সেগুলি একটু উন্নত ও দামী হয়।

RAM : প্রসেসর ও মাদারবোর্ড অনুযায়ী DDR3 বা DDR4 RAM কিনবেন। তবে RAM এর ফ্রিকোয়েন্সি দেখে নেবেন। ১৩৩৩ MHz, ১৬০০ MHz, ১৮৬৬ MHz, ২১৩৩ Mhz, ইত্যাদি বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সির RAM পাওয়া যায়। ২ টি স্লটে ২ টি RAM লাগালে সেই দুটির ফ্রিকোয়েন্সি যেন অবশ্যই সমান হয়। এমন না হলে যেটির ফ্রিকোয়েন্সি কম সেই অনুযায়ী দুটি চলবে। যেমন ১৬০০১৮৬৬ একসাথে ব্যবহার করলে দুটিই ১৬০০ MHz হিসাবে কাজ করবে। ৪ জিবি RAM কেনার চেষ্টা করবেন। যদি কোনো কারণে সম্ভব না হয়, তাহলে ২ জিবি কিনুন। চেষ্টা করবেন পরে অারও একটি ২ বা ৪ জিবির RAM লাগাতে। মনে রাখবেন ৪ জিবি বা তার বেশি RAM থাকলে অপারেটিং সিস্টেমটি ৬৪ বিট হতে হবে।

হার্ড ডিস্ক বা HDD : ৫০০ জিবি এবং ১ টিবি অায়তনের হার্ডডিস্কই এই মুহুর্তে বেশি প্রচলিত। ৫০০ জিবিতে ৪৬৬ জিবি ও ১ টিবিতে ৯৩১ জিবি পাবেন। অপারেটিং সিস্টেম ও অন্যান্য সফটওয়্যার ইনস্টল করার জন্য ৫০ জিবি বাদ রেখে বাকিটা ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন ফাইল ফোল্ডার সেভ করে রাখার জন্য। যেকোনো ব্র্যান্ডের হার্ডডিস্ক কিনতে পারেন। তবে ডেস্কটপের জন্য হার্ড ডিস্কটি ৭২০০ RPM এর হলে ভালো হয়। একটি হার্ডডিস্কের জন্য মাদারবোর্ডের একটি SATA পোর্ট ব্যবহৃত হবে।

ক্যাবিনেট ও পাওয়ার সাপ্লাই : এই দুটি অনেক সময় একসাথেই পাওয়া যায়। অাপনি চাইলে অালাদা পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কিনতে পারেন। পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটকে SMPS ও বলা হয়। ক্যাবিনেট অাপনার ইচ্ছামত কিনুন। শুধু দেখে নেবেন সামনে যেন অন্তত দুটি USB পোর্ট থাকে। এছাড়া হেডফোন ও মাইক্রোফোন লাগানোর ৩.৫ মিমি পোর্ট অবশ্যই থাকে। যদি ডিভিডি রাইটার লাগাতে চান, তার ব্যবস্থা অবশ্যই থাকতে হবে। এছাড়া হাওয়া চলাচল করার জন্য যথেষ্ট পথ রয়েছে কিনা দেখে নেবেন। অন্তত দুটি পাখা লাগানোর ব্যবস্থা থাকলে ভালো। যদি কম্পিউটারে অতিমাত্রার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যন্ত্রপাতি থাকে, শুধুমাত্র সেক্ষেত্রেই অালাদা করে দামী SMPS কিনবেন।

ডিভিডি রাইটার : এটি বাদ দিয়েও কম্পিউটার কিনতে পারেন। এখন প্রায় সবকিছুই ডাউনলোড করে নেওয়া যায়। ডিভিডি চালিয়ে সফটওয়্যার ইনস্টল করার প্রয়োজন হয় না। যদি কিনতেই হয়, তাহলে দেখবেন ক্যাবিনেটে যেন ডিভিডি রাইটার লাগানোর ব্যবস্থা থাকে। একসাথে একাধিক ডিভিডি রাইটার লাগাতে চাইলে ক্যাবিনেটটি তার উপযোগী হতে হবে এবং প্রত্যেক ডিভিডি রাইটার একটি করে SATA পোর্ট ব্যবহার করবে। বাড়িতে বা অফিসে যদি একাধিক কম্পিউটার থাকে তবে প্রত্যেকটির জন্য অালাদা অালাদা ডিভিডি রাইটার না কিনে শুধুমাত্র একটি এক্সটারনাল ডিভিডি রাইটার কিনতে পারেন যেটি USB পোর্টের মাধ্যমে কম্পিউটারের বাইরে থেকে যুক্ত করা যাবে।

কিবোর্ড ও মাউস : বিভিন্ন দামের কিবোর্ড ও মাউস পাওয়া যায়। শুধুমাত্র কম্পিউটারের জন্য কিনলে, দেখে নেবেন কিবোর্ড কানেক্টরটি যেন PS2 হয়। এতে অাপনার মাদারবোর্ডের একটি USB পোর্ট খালি থাকবে। তবে ওই একই কিবোর্ড অন্য কোনো যন্ত্রে ব্যবহার করলে USB কানেক্টরযুক্ত হতে হবে। মাউসও PS2 এবং USB দুই প্রকারের পাওয়া যায়। USB মাউস যেহেতু সহজলভ্য তাই সেটাই কিনুন। কেনার সময় দেখে নেবেন মাদারবোর্ডে কয়টি USB ও কয়টি PS2 পোর্ট রয়েছে। সাধারণত কিবোর্ড দীর্ঘস্থায়ী হয় মাউসের তুলনায়। তাই কিবোর্ড যেকোনো কিনলেও মাউসটি একটু ভালো নেবেন। ওয়্যারলেস কিবোর্ড মাউসের জন্য একটি মাত্র USB পোর্ট প্রয়োজন। ওয়্যারলেস কিবোর্ডের ব্যাটারী মাউসের তুলনায় অনেক বেশিদিন কাজ করে। তুলনামূলকভাবে ওয়্যারলেস মাউসের ব্যাটারী ঘনঘন বদলাতে হয়।

স্পিকার : কম্পিউটারে স্পিকার না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। তবে স্পিকার থাকলে কম্পিউটার ব্যবহারের পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। অাজকাল অত্যন্ত কম দামে স্পিকার ও হেডফোন কিনতে পাওয়া যায়। তাই অাপনার প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো স্পিকার অাপনি কিনতে পারেন। স্পিকার বা হেডফোন ৩.৫ মিমি কানেক্টরের সাহায্যে মাদারবোর্ডের সাথে অথবা ক্যাবিনেটের সামনের অংশে যুক্ত করা যাবে।

UPS : যেখানে কম্পিউটার ব্যবহার করছেন সেখানে ঘনঘন লোডশেডিং বা বিদ্যুতের অন্যান্য সমস্যা থাকলে UPS অাপনাকে কিনতেই হবে। হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত এটি কম্পিউটারকে সচল রাখবে। ৬০০ ভিএ ক্ষমতার UPSই বেশি চোখে পড়ে। সবসময় কেনার অাগে এটি ভালো করে দেখে নেবেন। মডেল নাম্বার UPS এর ক্ষমতাকে বর্ণনা করে না। মডেল নাম্বারে ৭২৫ থাকলেও তার ক্ষমতা ৬০০ ভিএ হতে পারে।

এখানে শুধুমাত্র সেইসব যন্ত্রাংশের কথাই বলা হল যেগুলি কম্পিউটার চালু করার জন্য একান্তই প্রয়োজন। এছাড়াও অসংখ্য যন্ত্র রয়েছে যেগুলি অাপনাকে পরে কিনতে হতে পারে। সেগুলি নিয়ে অালাদা করে লেখা হবে। এগুলি ছাড়াও অারও একটি অতি গুরুত্বপূ্র্ণ হার্ডওয়্যার রয়েছে যেটি সবসময় অাপনার চোখের সামনে থাকব; কম্পিউটারের মনিটর বা ডিসপ্লে। মনিটর নিয়ে অালাদা করে লেখা হল।


Tuesday, 6 February 2018

লিনাক্সের কিছু সুবিধা ও অসুবিধা



বিনামূল্যে প্রাপ্য ও অধিক নিরাপদ হওয়া সত্ত্বেও লিনাক্স এখনও সেভাবে জনপ্রিয় হতে পারেনি। সবকিছুর ভালো ও খারাপ উভয়ই অাছে লিনাক্সও তার ব্যতিক্রম নয়। অাপনাদের বোঝার সুবিধার্থে এখানে শুধুমাত্র প্রধান প্রধান কয়েকটি সুবিধা ও অসুবিধার কথা তুলে ধরব।

কিছু সুবিধা :
  • এটি পাওয়ার জন্য অাপনাকে কখনও পয়সা দিতে হবে না। তবে অাপনি চাইলে অাপনার ইচ্ছামত দান করতে পারেন। যদিও তা বাধ্যতামূলক নয়।
  • অধিক নিরাপদ এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম হওয়ায় সাধারণত হ্যাকারাও লিনাক্সের দিকে মনযোগ দেয় না। অাপনার পাসওয়ার্ড ছাড়া কম্পিউটারে কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল বা অানইনস্টল করা সম্ভব নয়।
  • অাকারে অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের থেকে অনেক ছোট। যেখানে উইন্ডোজের ক্ষেত্রে কম করে ৩ জিবি ডাউনলোড করতে হয় এবং ইনস্টল করার জন্য কমপক্ষে ২০-২৫ জিবি হার্ডডিস্ক প্রয়োজন সেখানে লিনাক্সের বেশিরভাগ ডিস্ট্রোই কমবেশি ১.৫ জিবির হয়ে থাকে ও ইনস্টলেশনের জন্য ১০ জিবির কাছাকাছি স্পেস প্রয়োজন।
  • সারা বিশ্বের অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক প্রতিনিয়ত লিনাক্সের উন্নতির জন্য কাজ করে চলেছে। তাই প্রায়শই নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য লিনাক্সের সাথে যুক্ত হতে থাকবে।
  • অধিকাংশ লিনাক্স ডিস্ট্রোই যেকোনো কম্পিউটারে চালানো সম্ভব, এমনকি অাপনার বাড়ি বা অফিসের কোণে পড়ে থাকা ১০ বছরের পুরানো কম্পিউটারেও।
  • নতুন বা পুরানো অতি সাধারণ ক্ষমতার কম্পিউটারেও লিনাক্সের ডিস্ট্রোগুলি ভালোভাবে চলে। উইন্ডোজ যেখানে কমপক্ষে ২ থেকে ৪ জিবি RAM প্রয়োজন, সেখানে এগুলি ১ জিবিতেও ভালো করে চলবে।
  • লিনাক্সের বেশিরভাগ সফটওয়্যারই বিনামূল্যে পাওয়া যায়। অাপনার যাবতীয় কাজের জন্য কোনো না কোনো সফটওয়্যার অবশ্যই পেয়ে যাবেন।
  • ইন্টারনেটের অসংখ্য ওয়েবসাইট থেকে অাপনি অাপনার পছন্দমত থিম, অাইকন, ইত্যাদি ডাউনলোড করে কম্পিউটারকে সাজাতে পারবেন। অনেকটা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের লঞ্চারের মত ব্যাপার।
  • িনাক্সের বেশিরভাগ ডিস্ট্রোই কম্পিউটারে ইনস্টল করার অাগে অাপনি যাচাই করে দেখতে পারবেন। এভাবে প্রাথমিক কিছু কাজ যেমন, ইন্টারনেট ব্যবহার, লেখালেখি, ভিডিও দেখা, ইত্যাদি করা সম্ভব।

কিছু অসুবিধা :
  • বহুল ব্যবহৃত জনপ্রিয় সফটওয়্যারগুলি লিনাক্সে পাবেন না। পেজমেকার, ফটোশপ, ট্যালি, মাইক্রোসফট অফিসের মত অারও অনেক সফটওয়্যার লিনাক্সে চলে না। যদিও এগুলির কিছু কিছু বিকল্প রয়েছে এবং সেগুলি বিনামূল্যেই পাওয়া যায়।
  • কিছু কিছু কাজ করার জন্য অাপনাকে 'টার্মিনাল' ব্যবহার করতে হবে। টার্মিনাল অনেকটা ডসের কমান্ডলাইনের মত। অাপনাকে টার্মিনালে গিয়ে সেই নির্দিষ্ট কমান্ড টাইপ করে কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমদিকে একটু অসুবিধা হতে পারে।
  • উইন্ডোজের ন্যায় লিনাক্সে হার্ডডিস্কের পার্টিশন করা যায় না। পার্টিশন করার ব্যবস্থা থাকলেও প্রত্যেক পার্টিশন অালাদা অালাদা ড্রাইভ হিসাবে দেখাবে এবং ব্যবহারের অাগে ড্রাইভগুলি মাউন্ট করে নিতে হবে, যেমন অ্যান্ড্রয়েড ফোনে করতে হয়।
  • লিনাক্স ব্যবহারকারীদের সংখ্যা খুব একটা কম না হলেও উইন্ডোজ ও ম্যাকের তুলনায় খুবই নগণ্য। তাই বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিও লিনাক্সের জন্য সফটওয়্যার বানাতে অাগ্রহী নয়।
  • যদি অত্যাধুনিক কম্পিউটার গেমগুলি খেলার ইচ্ছা থাকে তবে লিনাক্স ব্যবহার করার অাগে অারও একবার ভাবতে হবে। কারণ চাহিদা কম থাকায় বেশিরভাগ গেমই লিনাক্সের জন্য বানানো হয় না। যদিও ভবিষ্যতে এই অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করা হয়।
  • কম্পিউটার শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলি মূলত উইন্ডোজের ব্যবহার ও উইন্ডোজে চালানো যায় এমন সফটওয়্যারগুলির ব্যবহার শিখিয়ে থাকে। তাই লিনাক্সের ব্যবহার অাপনাকে নিজের চেষ্টায় শিখতে হবে।

যে সুবিধা ও অসুবিধার কথা এখানে বলা হল তার তুলনা করে অাপনি ঠিক করবেন লিনাক্স অাপনার উপযোগী কি না। যদি অাপনি সাধারণ কিছু কাজকর্মের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করতে চান, সেক্ষেত্রে লিনাক্সের জুড়ি মেলা ভার। সাধারণ কাজকর্মের মধ্যে রয়েছে, ইন্টারনেট ব্যবহার, ভিডিও দেখা, গান শোনা, লেখালেখি, ইত্যাদি। যদি অফিসের কাজের জন্য ব্যবহার করতে চান, সেক্ষেত্রে অাপনাকে দেখতে হবে অাপনার দরকারী সেই নির্দিষ্ট সফটওয়্যারটি বা সেই কাজের জন্য অন্য কোনো সফটওয়্যার রয়েছে কী না। ফটো বা ভিডিও এডিটিং এর মত কাজও করা সম্ভব। কিন্তু অাপনাকে বিকল্প সফটওয়্যারের খোঁজ করতে হবে।


Saturday, 3 February 2018

উইন্ডোজের বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম হিসাবে লিনাক্স

      

কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের কথা বললেই মাইক্রোসফট উইন্ডোজের কথা মাথায় অাসে। কারণ অপারেটিং সিস্টেমের বাজারের অধিকাংশই দখল করে অাছে বিল গেটসের এই সংস্থা। সাধারণত কোনো কম্পিউটার কেনার পর অামরা উইন্ডোজের সিডি চালিয়ে অামাদের নতুন কম্পিউটারে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করি। কম্পিউটার বিক্রেতাই অামাদের হয়ে এই কাজটি করে দেন। অামরা অনেকেই এটা জানি না যে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম কেনার জন্য অামাদের দাম দিতে হয়। এই দাম দেওয়ার পর মাইক্রোসফট অামাদের একটি লাইসেন্স নম্বর প্রদান করে। বিনামূল্যে উইন্ডোজ ব্যবহারের জন্য অনেকেই বেঅাইনিভাবে বিভিন্ন টরেন্ট ওয়েবসাইট থেকে উইন্ডোজের পাইরেটেড ভার্সন ডাউনলোড করে। এইভাবে বেঅাইনিভাবে ডাউনলোড করা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারে ইনস্টল করার পর প্রথমেই যেটা করা হয় তা হল, উইন্ডোজের অটোমেটিক অাপডেট বন্ধ করা। কারণ এটা না করলে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হওয়ামাত্র মাইক্রোসফট অামাদের বেঅাইনি উইন্ডোজ বন্ধ করে দেবে। অাইনি কোনো পদক্ষেপ না নিলেও তারা সেই কম্পিউটারের অনেক কাজই সীমিত করে দেবে ও কোনোরকম সফটওয়্যার অাপডেট পাঠাবে না। শুনতে সাধারণ মনে হলেও এই অাপডেটগুলি বেশিরভাগক্ষেত্রেই নিরাপত্তাজনিত হয়ে থাকে। অাপডেট বন্ধ করার মাধ্যমে অামরা অামাদের কম্পিউটারের দরজা খুলে দিই বিভিন্ন রকম বিপদ যেমন, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার, র্যানসমওয়্যার ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজান, রুটকিট ও হ্যাকারদের জন্য। সম্প্রতিকালের WannaCry ransomware তার বড় প্রমাণ। বাজারচলতি অ্যান্টিভাইরাসগুলিও কোনো অভিজ্ঞ হ্যাকারের হাত থেকে কম্পিউটারের সুরক্ষা করতে অপারগ। তাই অামরা এমন কোনো এক অপারেটিং সিস্টেমের খোঁজ করব যেটা একদিকে বিনামূল্যে পাওয়া যায়, অপরদিকে উইন্ডোজের থেকেও বেশি নিরাপদ। সাথে এটাও দেখব অামাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলি ও তার জন্য দরকারী সফটওয়্যারগুলি নতুন অপারেটিং সিস্টেমে কীভাবে ব্যবহার করা যাবে।
     

লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম যে শুধুমাত্র বিনামূল্যেই পাওয়া যায় তা নয়, এটি একটি ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম। অর্থাৎ, যে কেউ লিনাক্স ডাউনলোড করে তাতে নিজের ইচ্ছামত পরিবর্তন করে পছন্দমত নাম দিয়ে বিতরণ করতে পারে এমনকি বিক্রয়ও করতে পারে। তাই লিনাক্সের বিভিন্ন রকম সংস্করণ দেখা যায়। এগুলিকে ডিস্ট্রিবিউশন বা ছোট করে ডিস্ট্রো বলা হয়। কয়েকটি বহুল ব্যবহৃত লিনাক্স ডিস্ট্রো হল, উবান্টু, উবান্টু মাটে, লিনাক্স মিন্ট, অার্ক লিনাক্স, ফেডোরা, ডেবিয়ান, মাঞ্জারো, ইত্যাদি। অামদের অ্যান্ড্রয়েডও লিনাক্সের ওপর ভিত্তি করে বানানো। এই ডিস্ট্রোগুলি দেখতে ভিন্ন ভিন্ন হলেও এদের কাজ মোটামুটিভাবে একই এবং যেকোনো লিনাক্স সফটওয়্যার যেকোনো ডিস্ট্রোতে ব্যবহার করা সম্ভব। যাবতীয় উদাহরণ দেখানোর জন্য অামি এখানে উবান্টু মাটে বা উবান্টু মেট ব্যবহার করব। অাপনি অাপনার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো লিনাক্স ডিস্ট্রো ব্যবহার করতে পারেন।