Pages

Saturday, 10 February 2018

ডেস্কটপ কম্পিউটার কেনার অাগে যেগুলি অাপনাকে জানতে হবে



প্রথম কোনো কম্পিউটার কেনার অাগে অামরা কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নিয়ে থাকি। তারপর সেই পরামর্শ অনুযায়ী কনফিগারেশন নিয়ে কোনো বিক্রেতার কাছে যাই। বিক্রেতা তাঁর সুবিধা অনুযায়ী তাতে কিছুটা পরিবর্তন করে অাপনাকে দাম বলে থাকে। এইভাবে অাপনার টাকায় অন্যের কম্পিউটার অাসে। অামরা তাদেরই পরামর্শ নিই যারা কম্পিউটার ব্যবহার করেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখেছি তাঁরা অাপনার প্রয়োজন না বুঝেই বাজারে প্রচলিত ভালো (এবং অবশ্যই দামী) কিছু কিছু যন্ত্রাংশ নেবার পরামর্শ দেন। দরকারী না হওয়া সত্ত্বেও মোটা টাকা খরচ হয় কম্পিউটার কিনতে। অামি অাপনাদের বলব অাপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কীভাবে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার অাপনারা নিজেই বেছে নিতে পারবেন।

প্রসেসর : কম্পিউটার কনফিগারেশনের শুরু হয় এটা দিয়ে এবং এটাতেই অামরা ভুল করে থাকি। শুধুমাত্র দুটি সংস্থা প্রসেসর তৈরি করে থাকে, Intel AMD। বিজ্ঞাপনের দৌলতে Intel এর নাম শুনে থাকলেও AMD র নাম অনেকের অজানা। Intel প্রসেসরগুলি একই ক্ষমতার AMD প্রসেসরের থেকে একটু দামী হয়ে থাকে। Intel এর প্রসেসর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও বেশি করে একই ক্ষমতার AMD প্রসেসরের তুলনায়। যদিও AMD নিত্যনতুন অাবিষ্কারের দ্বারা এখন প্রায় Intel এর সমতুল এবং এই দুইয়ের পার্থক্য বের করা ও কে বেশি ভালো সেই নিয়ে মাথা ঘামানো সময়ের অপচয়। যত বেশি কোর থাকবে তত উন্নত প্রসেসর হবে বলে অামরা মনে করি। কিন্তু এটা অনেকেই জানি না কাজ নির্ভর করে কিছুটা সফটওয়্যারের ওপরেও। যদি সফটওয়্যারটি এভাবে বানানো হয়ে থাকে যে, সেটি প্রসেসরের একটিমাত্র কোরই ব্যবহার করবে কাজ করার জন্য, তাহলে ২টি কোরযুক্ত প্রসেসরেও সেটি যেভাবে চলবে ৮টি কোরযুক্ত প্রসেসরেও সেটি একইভাবে চলবে।
ইন্টারনেট ব্যবহার, টাইপ করা, ভিডিও দেখা, গান শোনা, ইত্যাদি সাধারণ কাজগুলির জন্য খুব শক্তিশালী প্রসেসরের প্রয়োজন হয় না। যেকোনো ২টি কোরযুক্ত বা যাকে বলে Dual Core প্রসেসর এসব কাজ অনায়াসে করতে পারে। ট্যালি বা মাইক্রোসফট অফিসের মত ব্যাবসায়িক সফটওয়্যারগুলির জন্যও কোনো Dual Core প্রসেসরই যথেষ্ট। ফটো এডিটিং করতে চাইলে অন্তত ৩ গিগাহার্ৎজ (3 GHz) ক্ষমতার কোনো Dual Core প্রসেসর নিলে ভালো হয়। এতে দ্রুত কাজ হবে। ভিডিও এডিটিং বা কনভার্ট করার জন্য ৪টি অর্থাৎ Quad Core প্রসেসর নিলে ভালো হয়। কারণ এই কাজে প্রসেসর অধিকমাত্রায় ব্যবহৃত হয়Dual Core প্রসেসর ব্যবহার করলে কাজটি করতে সময় অনেক বেশি লাগবে।

মাদারবোর্ড বা মেনবোর্ড : মাদারবোর্ডের দিকে অামরা ততটা গুরুত্ব দিই না। অাসলে ভিন্ন ভিন্ন প্রসেসরের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মাদারবোর্ড কিনতে হয়। যেমন, Intel প্রসেসরের জন্য নির্দিষ্ট সকেট অনুযায়ী মাদারবোর্ড প্রয়োজন, অাবার একইভাবে AMD প্রসেসরের জন্য তার উপযোগী মাদারবোর্ড প্রয়োজন। বিক্রেতা অাপনাকে সঠিক মাদারবোর্ড বেছে নিতে সাহায্য করবে। তবে মাদারবোর্ডে অারও অনেক বাড়তি বৈশিষ্ট্য থাকে। সমসাময়িক পরিস্থিতি ও অাপনার প্রয়োজন অনুযায়ী মাদারবোর্ড কেনার অাগে সেগুলি দেখে নিতে পারলে ভালো হয়। যেমন, USB পোর্ট; অন্তত ৬ টি USB পোর্টযুক্ত মাদারবোর্ড কিনবেন। তবে না সম্ভব না হলে অন্তত ৪ টি অবশ্যই থাকা চাই। অন্তত ১ টি বা ২ টি পোর্ট যেন USB .০ হয়ে থাকে। USB .০ পোর্টগুলি হালকা নীল রঙের হয়। মনিটর যুক্ত করার জন্য ২ টি পোর্ট থাকা দরকার। একটি VGA বা D-Sub এবং অপরটি HDMI হলে ভালো হয়। VGA এর বদলে HDMI ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়। অন্তত ৩ টি SATA পোর্টযুক্ত মাদারবোর্ড কিনবেন, তবে ৪ টি থাকলে ভালো। মাদারবোর্ডে যেন একটি PCI-Express x1 ও একটি PCI-Express x16 স্লট অবশ্যই থাকে। RAM লাগানোর স্লট ২ টি থাকা দরকার। একটি ব্যবহৃত হবে, অপরটি খালি থাকবে ভবিষ্যতে বাড়ানোর জন্য। ৪ টি RAM স্লটযুক্ত মাদারবোর্ডও পাওয়া যায়, কিন্তু সেগুলি একটু উন্নত ও দামী হয়।

RAM : প্রসেসর ও মাদারবোর্ড অনুযায়ী DDR3 বা DDR4 RAM কিনবেন। তবে RAM এর ফ্রিকোয়েন্সি দেখে নেবেন। ১৩৩৩ MHz, ১৬০০ MHz, ১৮৬৬ MHz, ২১৩৩ Mhz, ইত্যাদি বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সির RAM পাওয়া যায়। ২ টি স্লটে ২ টি RAM লাগালে সেই দুটির ফ্রিকোয়েন্সি যেন অবশ্যই সমান হয়। এমন না হলে যেটির ফ্রিকোয়েন্সি কম সেই অনুযায়ী দুটি চলবে। যেমন ১৬০০১৮৬৬ একসাথে ব্যবহার করলে দুটিই ১৬০০ MHz হিসাবে কাজ করবে। ৪ জিবি RAM কেনার চেষ্টা করবেন। যদি কোনো কারণে সম্ভব না হয়, তাহলে ২ জিবি কিনুন। চেষ্টা করবেন পরে অারও একটি ২ বা ৪ জিবির RAM লাগাতে। মনে রাখবেন ৪ জিবি বা তার বেশি RAM থাকলে অপারেটিং সিস্টেমটি ৬৪ বিট হতে হবে।

হার্ড ডিস্ক বা HDD : ৫০০ জিবি এবং ১ টিবি অায়তনের হার্ডডিস্কই এই মুহুর্তে বেশি প্রচলিত। ৫০০ জিবিতে ৪৬৬ জিবি ও ১ টিবিতে ৯৩১ জিবি পাবেন। অপারেটিং সিস্টেম ও অন্যান্য সফটওয়্যার ইনস্টল করার জন্য ৫০ জিবি বাদ রেখে বাকিটা ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন ফাইল ফোল্ডার সেভ করে রাখার জন্য। যেকোনো ব্র্যান্ডের হার্ডডিস্ক কিনতে পারেন। তবে ডেস্কটপের জন্য হার্ড ডিস্কটি ৭২০০ RPM এর হলে ভালো হয়। একটি হার্ডডিস্কের জন্য মাদারবোর্ডের একটি SATA পোর্ট ব্যবহৃত হবে।

ক্যাবিনেট ও পাওয়ার সাপ্লাই : এই দুটি অনেক সময় একসাথেই পাওয়া যায়। অাপনি চাইলে অালাদা পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কিনতে পারেন। পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটকে SMPS ও বলা হয়। ক্যাবিনেট অাপনার ইচ্ছামত কিনুন। শুধু দেখে নেবেন সামনে যেন অন্তত দুটি USB পোর্ট থাকে। এছাড়া হেডফোন ও মাইক্রোফোন লাগানোর ৩.৫ মিমি পোর্ট অবশ্যই থাকে। যদি ডিভিডি রাইটার লাগাতে চান, তার ব্যবস্থা অবশ্যই থাকতে হবে। এছাড়া হাওয়া চলাচল করার জন্য যথেষ্ট পথ রয়েছে কিনা দেখে নেবেন। অন্তত দুটি পাখা লাগানোর ব্যবস্থা থাকলে ভালো। যদি কম্পিউটারে অতিমাত্রার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যন্ত্রপাতি থাকে, শুধুমাত্র সেক্ষেত্রেই অালাদা করে দামী SMPS কিনবেন।

ডিভিডি রাইটার : এটি বাদ দিয়েও কম্পিউটার কিনতে পারেন। এখন প্রায় সবকিছুই ডাউনলোড করে নেওয়া যায়। ডিভিডি চালিয়ে সফটওয়্যার ইনস্টল করার প্রয়োজন হয় না। যদি কিনতেই হয়, তাহলে দেখবেন ক্যাবিনেটে যেন ডিভিডি রাইটার লাগানোর ব্যবস্থা থাকে। একসাথে একাধিক ডিভিডি রাইটার লাগাতে চাইলে ক্যাবিনেটটি তার উপযোগী হতে হবে এবং প্রত্যেক ডিভিডি রাইটার একটি করে SATA পোর্ট ব্যবহার করবে। বাড়িতে বা অফিসে যদি একাধিক কম্পিউটার থাকে তবে প্রত্যেকটির জন্য অালাদা অালাদা ডিভিডি রাইটার না কিনে শুধুমাত্র একটি এক্সটারনাল ডিভিডি রাইটার কিনতে পারেন যেটি USB পোর্টের মাধ্যমে কম্পিউটারের বাইরে থেকে যুক্ত করা যাবে।

কিবোর্ড ও মাউস : বিভিন্ন দামের কিবোর্ড ও মাউস পাওয়া যায়। শুধুমাত্র কম্পিউটারের জন্য কিনলে, দেখে নেবেন কিবোর্ড কানেক্টরটি যেন PS2 হয়। এতে অাপনার মাদারবোর্ডের একটি USB পোর্ট খালি থাকবে। তবে ওই একই কিবোর্ড অন্য কোনো যন্ত্রে ব্যবহার করলে USB কানেক্টরযুক্ত হতে হবে। মাউসও PS2 এবং USB দুই প্রকারের পাওয়া যায়। USB মাউস যেহেতু সহজলভ্য তাই সেটাই কিনুন। কেনার সময় দেখে নেবেন মাদারবোর্ডে কয়টি USB ও কয়টি PS2 পোর্ট রয়েছে। সাধারণত কিবোর্ড দীর্ঘস্থায়ী হয় মাউসের তুলনায়। তাই কিবোর্ড যেকোনো কিনলেও মাউসটি একটু ভালো নেবেন। ওয়্যারলেস কিবোর্ড মাউসের জন্য একটি মাত্র USB পোর্ট প্রয়োজন। ওয়্যারলেস কিবোর্ডের ব্যাটারী মাউসের তুলনায় অনেক বেশিদিন কাজ করে। তুলনামূলকভাবে ওয়্যারলেস মাউসের ব্যাটারী ঘনঘন বদলাতে হয়।

স্পিকার : কম্পিউটারে স্পিকার না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। তবে স্পিকার থাকলে কম্পিউটার ব্যবহারের পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। অাজকাল অত্যন্ত কম দামে স্পিকার ও হেডফোন কিনতে পাওয়া যায়। তাই অাপনার প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো স্পিকার অাপনি কিনতে পারেন। স্পিকার বা হেডফোন ৩.৫ মিমি কানেক্টরের সাহায্যে মাদারবোর্ডের সাথে অথবা ক্যাবিনেটের সামনের অংশে যুক্ত করা যাবে।

UPS : যেখানে কম্পিউটার ব্যবহার করছেন সেখানে ঘনঘন লোডশেডিং বা বিদ্যুতের অন্যান্য সমস্যা থাকলে UPS অাপনাকে কিনতেই হবে। হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত এটি কম্পিউটারকে সচল রাখবে। ৬০০ ভিএ ক্ষমতার UPSই বেশি চোখে পড়ে। সবসময় কেনার অাগে এটি ভালো করে দেখে নেবেন। মডেল নাম্বার UPS এর ক্ষমতাকে বর্ণনা করে না। মডেল নাম্বারে ৭২৫ থাকলেও তার ক্ষমতা ৬০০ ভিএ হতে পারে।

এখানে শুধুমাত্র সেইসব যন্ত্রাংশের কথাই বলা হল যেগুলি কম্পিউটার চালু করার জন্য একান্তই প্রয়োজন। এছাড়াও অসংখ্য যন্ত্র রয়েছে যেগুলি অাপনাকে পরে কিনতে হতে পারে। সেগুলি নিয়ে অালাদা করে লেখা হবে। এগুলি ছাড়াও অারও একটি অতি গুরুত্বপূ্র্ণ হার্ডওয়্যার রয়েছে যেটি সবসময় অাপনার চোখের সামনে থাকব; কম্পিউটারের মনিটর বা ডিসপ্লে। মনিটর নিয়ে অালাদা করে লেখা হল।


No comments:

Post a Comment