Pages

Monday, 12 February 2018

মনিটর কেনার অাগে জেনে নিন



মনিটর কেনা খুবই সহজ কাজ বলে মনে হয়। বিভিন্ন অাকারের মনিটর পাওয়া যায়। কেনার সময় নিজের ইচ্ছামত অাকার দেখেই অামরা মনিটর কিনে ফেলি। কিন্তু কেনার পর বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বিভিন্ন সময়ে। মনিটর কেনার অাগে পর্দার অাকার ছাড়াও অনেককিছু দেখে নেওয়ার মত ব্যাপার রয়েছে। এগুলি জেনে নিলে মনিটর নিয়ে অাপনাকে সমস্যায় পড়তে হবে না। এখানে শুধুমাত্র LED মনিটর নিয়েই বলা হল। কারণ এই মনিটর যেমন একদিকে অাপনার বিদ্যুতের সাশ্রয় করবে অপরদিকে অাপনার চোখের স্বাস্থ্যও ভালো রাখবে।

অাকার : ডেস্কটপ মনিটরের বহুল প্রচলিত অাকারগুলি হল, ১৫.৬ ইঞ্চি, ১৮.৫ ইঞ্চি, ১৯.৫ ইঞ্চি, ২১.৫ ইঞ্চি, ইত্যাদি। পূর্ণসংখ্যা বা রাউন্ড ফিগারে অানার জন্য এগুলিকে ১৬ ইঞ্চি, ১৯ ইঞ্চি, ইত্যাদি বলা হয়। মাপ জানার জন্য পর্দার অাড়াঅাড়ি এক কোণ থেকে অপর কোণ মেপে নিন। ১৮.৫ ইঞ্চিই বেশি প্রচলিত। চেষ্টা করবেন কমপক্ষে এই মাপেরই মনিটর কিনতে।

প্যানেলের প্রকৃতি : প্রধানত তিন রকমের প্যানেল দেখা যায়, TN, VA IPS প্যানেল। এখানে এগুলির ব্যাপারে অতি সংক্ষেপে বলা হল।
TN এর দাম সবচেয়ে কম। এই প্যানেলের viewing angle সবচেয়ে কম। অর্থাৎ সামনে বসে অাপনি যতটা পরিস্কার দেখবেন, উপর-নীচে বা ডানদিক-বামদিকে সরে গেলে ছবি ততটা ভালো থাকবে না।
VA প্যানেলের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর কনট্রাস্ট রেশিও। কনট্রাস্ট রেশিও বেশি থাকায় এতে কালো রঙ অত্যন্ত ঘন কালো হিসাবে দেখা যায়। ভিডিও দেখার জন্য VA প্যানেল অাদর্শ। এর ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল TN এর তুলনায় অনেক বেশি।
এই তিনের মধ্যে সবচেয়ে দামী হচ্ছে IPS প্যানেল। এটি বিখ্যাত এর ভিউয়িং অ্যাঙ্গেলের জন্য। বলতে গেলে এটিকে যেকোনো কোণ থেকে সমানভাবে দেখা যায়। ছবির রঙও খুব সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। তাই ফটো ও ভিডিও এডিটিং করার জন্য IPS মনিটর ব্যবহার করলে ভালো কাজ হয়। তবে এর কনট্রাস্ট রেশিও VA প্যানেলের থেকে কম হওয়ায় এতে কালো রঙ ততটা ঘন কালো দেখায় না।

রেজলিউশন : মোবাইল ফোন কেনার সময় অামরা যেমন ডিসপ্লে রেজলিউশন দেখে কিনি, কম্পিউটার মনিটর কেনার সময় অামরা ততটা গুরুত্ব দিই না। মনিটরের অাকার কম রেজলিউশন বেশি হলে ছবি যেমন কাচের মত পরিস্কার অাসবে, অপরদিকে অাকার বেশি ও রেজলিউশন কম হলে ছবি ঘোলাটে দেখাবে। ১৫.৬ বা ১৮.৫ ইঞ্চি মনিটর কিনলে দেখে নেবেন তার রেজলিউশন যেন ১৩৬৬x৭৬৮ এর কম না হয়। এর বেশি অাকারের মনিটর যেমন ২১.৫ বা তার বেশি হলে কমপক্ষে ১৯২০x১০৮০ পিক্সেল রেজলিউশন থাকা অাবশ্যিক। ২৭ বা ৩২ ইঞ্চির মত বড় অাকারের মনিটর কিনলে তার রেজলিউশন দেখে নেবেন। রেজলিউশন কিছুটা অ্যাসপেক্ট রেশিওর ওপরেও নির্ভর করে।

অ্যাসপেক্ট রেশিও : এটি হল মনিটরের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত। মনিটর বলতে শুধুমাত্র সেটুকুই বোঝানো হচ্ছে যার মধ্যে ছবি ফুটে ওঠে। মনিটরের ফ্রেমকে অ্যাসপেক্ট রেশিওর মধ্যে ধরা হয় না। অাগেকার দিনের CRT মনিটরগুলি দেখলে বুঝতে পারবেন সেগুলি কিছুটা বর্গাকার হত। সেগুলির অ্যাসপেক্ট রেশিও হত ৪:৩। বর্তমানে LED মনিটরগুলি দেখলে বুঝবেন এগুলি অায়তাকার। অনেকটা থিয়েটারের পর্দার মত। এগুলির অ্যাসপেক্ট রেশিও সাধারণত ১৬:৯ হয়ে থাকে। কিছুটা বর্গাকার LED মনিটরও দেখা যায়, যেগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন অফিসে ব্যবহৃত হয়। এগুলি ৫:৪ অ্যাসপেক্ট রেশিওর হয়ে থাকে। এছাড়াও ১৬:১০ মনিটরও দেখা যায়। যদিও এগুলি সংখ্যায় খুব কম। ক্রমশঃ Ultra Wide মনিটর জনপ্রিয় হচ্ছে। এগুলি ২১:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিওর হয়।
১৬:৯ মনিটর ভিডিও দেখা ও গেম খেলার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ। এতে দুটি উইন্ডো পাশাপাশি খুলে রেখে ব্যবহার করা যায় ভালোভাবে। যদি অাপনাকে একইসাথে দুটি কাজ করতে হয় তাহলে ১৬:৯ মনিটরে সুবিধা হবে।
অফিসের কাজের জন্য ৫:৪ অ্যাসপেক্ট রেশিওর মনিটর ব্যবহার করলে একসাথে অনেকটা অংশ দেখতে পাবেন। ডকুমেন্ট টাইপিং বা পড়ার জন্য এই মনিটর অাদর্শ। কারণ এতে বারবার মাউসের সাহায্যে নামিয়ে নামিয়ে পড়তে হবে না। এগুলির দাম তুলনামূলকভাবে একটু বেশি হয়।
এই দুটির মাঝামাঝি বিকল্প হিসাবে ১৬:১০ এর মনিটর কিনতে পারেন। তবে এই অ্যাসপেক্ট রেশিওর মনিটর খুব বেশি পাওয়া যায় না।
এখন প্রায় সমস্ত ভিডিও ১৬:৯ তে বানানো হয়। তাই ৫:৪ বা ১৬:১০ মনিটরে এইরকম ভিডিও চালালে ওপরে ও নীচে দুটি কালো অংশ দেখতে পাবেন।

ইনপুট কানেক্টর : এটির মাধ্যমে কম্পিউটারের সিগন্যাল মনিটরে যাবে এবং পর্দায় সবকিছু দেখতে পাবেন। এটি বিভিন্ন রকমের হয়। কখনও কখনও মনিটরে একাধিক ইনপুট কানেক্টর থাকে। সাধারণত VGA বেশি লক্ষ্য করা যায়। VGA কানেক্টর অ্যানালগ সিগন্যাল বহন করে। এটির মাধ্যমে মনিটর যুক্ত করলে এর মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র ছবিই পর্দায় ফুটে উঠবে। মনিটরের ভিতরে স্পিকার থাকলে তাতে সিগন্যাল যাবে না। VGA কে D-Sub ও বলা হয়।
এরপর রয়েছে DVI-I DVI-D। প্রথমটি অ্যানালগ ও ডিজিটাল দুইপ্রকার এবং দ্বিতীয়টি শুধু ডিজিটাল সিগন্যাল বহন করে। VGA এর ন্যায় এটিও শুধুমাত্র ছবির সিগন্যাল বহন করে। DVI তেমনভাবে প্রচলিত নয় এবং খুব কম মনিটরেই এইরূপ কানেক্টর পাবেন।
HDMI এর কথা অনেকেই জানেন, কারণ মনিটরে এই কানেক্টর থাকলে অনেক সময় তা বড় বড় করে লেখা থাকে। এটি শুধুমাত্র ডিজিটাল সিগন্যাল বহন করে যার মধ্যে ছবি ও শব্দ দুইই রয়েছে। যদি মাদারবোর্ড ও মনিটরে HDMI পোর্ট থাকে তাহলে অবশ্যই এটি ব্যবহার করুন। মনিটরে স্পিকার থাকলে অালাদাভাবে স্পিকার কেনার প্রয়োজন হবে না। বর্তমানে অনেক যন্ত্রে HDMI পোর্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে সেট টপ বক্স, গেমিং কনসোল, ইত্যাদি। সম্ভব হলে বাকি দুটির বদলে HDMI ই ব্যবহার করুন।
এগুলি ছাড়াও অারও বেশকিছু কানেক্টর রয়েছে সেগুলি একটু উন্নত ও অত্যাধুনিক মনিটরে ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য বৈশিষ্ট্য : কেনার অাগে অারও কিছু ছোটখাটো ব্যাপার দেখে নিতে পারলে ব্যবহার করার সময় সুবিধা হবে। অাপনার প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলি দেখে নেবেন। যদিও সবকিছু একসাথে পাওয়া সম্ভব না হতেও পারে।
মনিটর উপর-নীচে হেলানোর ব্যবস্থা থাকলে ভালো হয়। কিছু কিছু মনিটরের উচ্চতা কমবেশি করা যায়।
বিভিন্ন কাজ করার জন্য কিছু বোতাম মনিটরের নীচে দেওয়া থাকে। এগুলির সাহায্যে ব্রাইটনেস, কনট্রাস্ট, কালার, রেজলিউশন, ইত্যাদি কমবেশি করা যায়। অনেক সময় বাটনের বদলে সফটওয়্যার দেওয়া থাকে। যেটি ইনস্টল করে ওইসব কাজ করা যায়। বাটন থাকলে বেশি সুবিধা হয়।
ইনপুট কানেক্টর অন্তত দুটি থাকলে ভালো। এর মধ্যে একটি VGA ও অপরটি HDMI হলে প্রায় সমস্ত কিছুর সাথেই সেই মনিটর যুক্ত করা যাবে। একধিক যন্ত্রের জন্য একটি মনিটর ব্যবহার করতে পারবেন এক্ষেত্রে। তবে যেকোনো সময়ে শুধুমাত্র একটিই ব্যবহার করা যাবে।
মনিটরে স্পিকার থাকলে সাধারণত সেই মনিটরে HDMI পোর্ট থাকবে। তবে HDMI পোর্ট অাছে অথচ স্পিকার নেই এমনটা হয়েই থাকে। মনিটরের স্পিকারগুলি খুবই সাধারণ মানের হয়।
ডিসপ্লে glossy বা চকচকে হলে কাজ করার সময় অাপনি নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পাবেন। জানলার ধারে থাকলে দিনের অালোয় এমন মনিটরে কাজ করা খুবই সমস্যার। সবসময় matte বা খসখসে প্রকৃতির ডিসপ্লে কিনবেন।
টিভির মত দেওয়ালে লাগাতে চাইলে দেখে নেবেন সেই ব্যবস্থা অাছে কিনা। এই ব্যবস্থাকে vesa mount বলা হয়। ভেসা মাউন্ট করার অাগে দেখে নেবেন পাওয়ার ও ডিসপ্লে কেবলগুলি ঠিকঠাক লাগানো যাচ্ছে কিনা।

বৈশিষ্ট্য ও ব্র্যান্ড অনুযায়ী মনিটরের দামের তারতম্য হবে। কম্পিউটারের অন্যান্য হার্ডওয়্যার কনফিগারেশনের ন্যায় মনিটরের বৈশিষ্ট্যগুলিও দেখে নেবেন। উন্নত হার্ডওয়্যার থাকলে উন্নত মনিটর নিতে হবে বা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষমতার কম্পিউটার নিলে যে অতি সাধারণ মনিটর নিতে হবে; এই ধারণা ত্যাগ করবেন। যেমন দরকার ঠিক তেমনটি কিনবেন।





No comments:

Post a Comment