বিনামূল্যে প্রাপ্য ও অধিক নিরাপদ হওয়া সত্ত্বেও লিনাক্স এখনও সেভাবে জনপ্রিয় হতে পারেনি। সবকিছুর ভালো ও খারাপ উভয়ই অাছে লিনাক্সও তার ব্যতিক্রম নয়। অাপনাদের বোঝার সুবিধার্থে এখানে শুধুমাত্র প্রধান প্রধান কয়েকটি সুবিধা ও অসুবিধার কথা তুলে ধরব।
কিছু
সুবিধা :
-
এটি পাওয়ার জন্য অাপনাকে কখনও পয়সা দিতে হবে না। তবে অাপনি চাইলে অাপনার ইচ্ছামত দান করতে পারেন। যদিও তা বাধ্যতামূলক নয়।
-
অধিক নিরাপদ এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম হওয়ায় সাধারণত হ্যাকারাও লিনাক্সের দিকে মনযোগ দেয় না। অাপনার পাসওয়ার্ড ছাড়া কম্পিউটারে কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল বা অানইনস্টল করা সম্ভব নয়।
-
অাকারে অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের থেকে অনেক ছোট। যেখানে উইন্ডোজের ক্ষেত্রে কম করে ৩ জিবি ডাউনলোড করতে হয় এবং ইনস্টল করার জন্য কমপক্ষে ২০-২৫ জিবি হার্ডডিস্ক প্রয়োজন সেখানে লিনাক্সের বেশিরভাগ ডিস্ট্রোই কমবেশি ১.৫ জিবির হয়ে থাকে ও ইনস্টলেশনের জন্য ১০ জিবির কাছাকাছি স্পেস প্রয়োজন।
-
সারা বিশ্বের অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক প্রতিনিয়ত লিনাক্সের উন্নতির জন্য কাজ করে চলেছে। তাই প্রায়শই নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য লিনাক্সের সাথে যুক্ত হতে থাকবে।
-
অধিকাংশ লিনাক্স ডিস্ট্রোই যেকোনো কম্পিউটারে চালানো সম্ভব, এমনকি অাপনার বাড়ি বা অফিসের কোণে পড়ে থাকা ১০ বছরের পুরানো কম্পিউটারেও।
-
নতুন বা পুরানো অতি সাধারণ ক্ষমতার কম্পিউটারেও লিনাক্সের ডিস্ট্রোগুলি ভালোভাবে চলে। উইন্ডোজ যেখানে কমপক্ষে ২ থেকে ৪ জিবি RAM প্রয়োজন, সেখানে এগুলি ১ জিবিতেও ভালো করে চলবে।
-
লিনাক্সের বেশিরভাগ সফটওয়্যারই বিনামূল্যে পাওয়া যায়। অাপনার যাবতীয় কাজের জন্য কোনো না কোনো সফটওয়্যার অবশ্যই পেয়ে যাবেন।
-
ইন্টারনেটের অসংখ্য ওয়েবসাইট থেকে অাপনি অাপনার পছন্দমত থিম, অাইকন, ইত্যাদি ডাউনলোড করে কম্পিউটারকে সাজাতে পারবেন। অনেকটা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের লঞ্চারের মত ব্যাপার।
-
লিনাক্সের বেশিরভাগ ডিস্ট্রোই কম্পিউটারে ইনস্টল করার অাগে অাপনি যাচাই করে দেখতে পারবেন। এভাবে প্রাথমিক কিছু কাজ যেমন, ইন্টারনেট ব্যবহার, লেখালেখি, ভিডিও দেখা, ইত্যাদি করা সম্ভব।
কিছু
অসুবিধা :
-
বহুল ব্যবহৃত জনপ্রিয় সফটওয়্যারগুলি লিনাক্সে পাবেন না। পেজমেকার, ফটোশপ, ট্যালি, মাইক্রোসফট অফিসের মত অারও অনেক সফটওয়্যার লিনাক্সে চলে না। যদিও এগুলির কিছু কিছু বিকল্প রয়েছে এবং সেগুলি বিনামূল্যেই পাওয়া যায়।
-
কিছু কিছু কাজ করার জন্য অাপনাকে 'টার্মিনাল' ব্যবহার করতে হবে। টার্মিনাল অনেকটা ডসের কমান্ডলাইনের মত। অাপনাকে টার্মিনালে গিয়ে সেই নির্দিষ্ট কমান্ড টাইপ করে কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমদিকে একটু অসুবিধা হতে পারে।
-
উইন্ডোজের ন্যায় লিনাক্সে হার্ডডিস্কের পার্টিশন করা যায় না। পার্টিশন করার ব্যবস্থা থাকলেও প্রত্যেক পার্টিশন অালাদা অালাদা ড্রাইভ হিসাবে দেখাবে এবং ব্যবহারের অাগে ড্রাইভগুলি মাউন্ট করে নিতে হবে, যেমন অ্যান্ড্রয়েড ফোনে করতে হয়।
-
লিনাক্স ব্যবহারকারীদের সংখ্যা খুব একটা কম না হলেও উইন্ডোজ ও ম্যাকের তুলনায় খুবই নগণ্য। তাই বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিও লিনাক্সের জন্য সফটওয়্যার বানাতে অাগ্রহী নয়।
-
যদি অত্যাধুনিক কম্পিউটার গেমগুলি খেলার ইচ্ছা থাকে তবে লিনাক্স ব্যবহার করার অাগে অারও একবার ভাবতে হবে। কারণ চাহিদা কম থাকায় বেশিরভাগ গেমই লিনাক্সের জন্য বানানো হয় না। যদিও ভবিষ্যতে এই অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করা হয়।
-
কম্পিউটার শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলি মূলত উইন্ডোজের ব্যবহার ও উইন্ডোজে চালানো যায় এমন সফটওয়্যারগুলির ব্যবহার শিখিয়ে থাকে। তাই লিনাক্সের ব্যবহার অাপনাকে নিজের চেষ্টায় শিখতে হবে।
যে
সুবিধা ও অসুবিধার কথা এখানে
বলা হল তার তুলনা করে অাপনি
ঠিক করবেন লিনাক্স অাপনার
উপযোগী কি না। যদি অাপনি সাধারণ
কিছু কাজকর্মের জন্য কম্পিউটার
ব্যবহার করতে চান,
সেক্ষেত্রে
লিনাক্সের জুড়ি মেলা ভার।
সাধারণ কাজকর্মের মধ্যে রয়েছে,
ইন্টারনেট
ব্যবহার,
ভিডিও
দেখা,
গান
শোনা,
লেখালেখি,
ইত্যাদি।
যদি অফিসের কাজের জন্য ব্যবহার
করতে চান,
সেক্ষেত্রে
অাপনাকে দেখতে হবে অাপনার
দরকারী সেই নির্দিষ্ট সফটওয়্যারটি
বা সেই কাজের জন্য অন্য কোনো
সফটওয়্যার রয়েছে কী না। ফটো
বা ভিডিও এডিটিং এর মত কাজও
করা সম্ভব। কিন্তু অাপনাকে
বিকল্প সফটওয়্যারের খোঁজ
করতে হবে।

No comments:
Post a Comment